

বুধবার ● ২৮ আগস্ট ২০১৩
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা » গর্ভাবস্থাতেই শিশু শব্দ সনাক্ত করতে শেখে
গর্ভাবস্থাতেই শিশু শব্দ সনাক্ত করতে শেখে
গর্ভবতী মায়েদের আশেপাশের কথাবার্তা সম্পর্কে সচেত থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মায়ের পেটে বেড়ে ওঠা ভ্রুণ বাইরের জগতের শব্দ শুনতে পায় এবং জন্মের পরে স্মৃতিতে ধারণ করা শব্দগুলো বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে।
গর্ভাশয়ের মধ্যে ভ্রুণ কথাবার্তা শুনতে পায় এটা অবাস্তব মনে হলেও মস্তিস্কের শ্রবনেন্দ্রিয়গুলো গর্ভকালীন সময়ের এক তৃতীয়াংশ পার হতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মায়ের পেটের মধ্যে দিয়েই শব্দ বহন করে। “যদি আপনি মুখের ওপর হাত রেখে কথা বলেন তাহলে বিষয়টি ঠিক এমনই ঘটবে যেটা গর্ভের শিশুর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। আপনি শুনতে পাবেন কথার ছন্দ, সুরের ছন্দ প্রভৃতি। ” বললেন হেলসিনকি বিশ্ববদ্যালয়ের কগনিটিভ নিউরোসায়েন্টিস্ট এইনো পার্টান্যান।
১৯৮৮ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল নবজাতকরা তাদের মায়েদের প্রিয় গানটিকে সনাক্ত করতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই গবেষণায় পূর্বের ধারণাটিকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করে গর্ভকালীন শিশুর শব্দ শেখার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। একইসাথে বলা হয়েছে পিতামাতার মাতৃভাষা সম্বন্ধে নবজাতকরা এই সময়েই পরিচিত হয়ে ওঠে। যেমন আমেরিকান নবজাতকের ক্ষেত্রে সুইডিশ স্বরধ্বনি অপরিচিত হিসেবেই হৃদয়ঙ্গম করতে হয় এবং সুইডিশ নবজাতকের ক্ষেত্রেও আমেরিকান স্বরধ্বনি শিখতে একই ব্যাপার ঘটে।
পার্টান্যান ব্যাখ্যা করেন, যখন আমরা কোন শব্দ সম্বন্ধে শিখি এবং যদি সেটি আমাদের কাছে পুনরাবৃত্তি করা হয় তখন শব্দটি স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত হয়ে যায়। যখন আমরা আবার সেই শব্দটি শুনি তখন স্মৃতি কার্যকর হয়ে ওঠে। এই স্মৃতি শিক্ষাথীর্র মাতৃভাষার শব্দগুলো সনাক্ত করতে ত্বরান্বিত করে, যা মস্তিস্কের তরঙ্গ আকারে নির্ধারিত হয়ে থাকে, এমনকি ঘুমন্ত শিশুর ক্ষেত্রেও।
গবেষকরা তাদের পরীক্ষাটি করার জন্য কয়েকজন গর্ভবতী মহিলাকে বেছে নেন, যাদের গর্ভকালীন শেষ কয়েক মাসের মধ্যে কোন একটি সপ্তাহে অনেকবার করে একটি রেকর্ডিং বাজিয়ে শোনানো হয়। যেখানে ‘টাটাটা’ বলে একটি অর্থহীন শব্দও সংযু্ক্ত করা হয়, যা অনেকবার মিউজিকের সাথে বিক্ষিপ্তভাবে শোনানো হয়। কখনো কখনো মাঝখানের উচ্চারণটি পাল্টে দিয়ে ভিন্ন ধ্বনি জুড়ে দেয়া হতো। শিশুরা গড়ে শব্দটি ২৫০০০ বার শুনেছিল। পরবর্তীতে দেখা গেছে জন্মানো শিশুরা শব্দের এই তফাত সনাক্ত করতে পারছে। যাদের মায়েরা বেশি সময় রেকর্ডিংটি শুনিয়েছিল সেইসব শিশুদের স্মৃতি তত প্রখর ছিল। তবে গবেষকরা এটাও সতর্ক করেছেন অধিক শব্দ গর্ভের বাচ্চার শ্রবনেন্দিয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে, একইসাথে ঘুমের নিয়মেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স
২৪ আগস্ট, ২০১৩