

রবিবার ● ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৪
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: জীববিদ্যা ও বিবর্তন » বিবর্তনের ধারাই পুরুষকে বহুগামী করেছে
বিবর্তনের ধারাই পুরুষকে বহুগামী করেছে
বিবর্তনের ধারাই পুরুষকে বহুগামিতার পথে নিয়ে যায়। পুরুষদের যৌন তাড়না বহুগামীতার দিকে যাওয়ার সূত্র হিসেবে এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন কাতারের দোহা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মার্টিন স্টুয়ার্ট। তিনি সম্প্রতি ৫০০ ব্রিটিশ পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে ২৭ ধরনের পুরুষের খোঁজ পেয়েছেন। যা থেকে তিনি দেখিয়েছেন কোনো কোনো পুরুষ কেন তাঁদের সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেন এবং অন্য নারীতে আসক্ত হন। Why Men Really Cheat বইয়ে মার্টিন স্টুয়ার্ট এ সংক্রান্ত তার গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করেছেন।
স্টুয়ার্টের এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, জীবনে কখনো না কখনো তারা স্ত্রী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের বর্তমান সঙ্গিনীর সঙ্গেই এ ধরনের আচরণ করেছেন। এমন আচরণের পেছনে যেসকল যুক্তি দেখানো হয়েছে তা হলো: তাদের প্রেমিকা শারীরিক প্রেমের বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছিলেন না কিংবা স্ত্রীকে ভালোবাসলেও বিষয়টা শুধুই যৌনতার।
তবে স্টুয়ার্ট তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিবর্তনবাদের কারণেই আমাদের মধ্যে এই ধরনের আচরণ দেখা যায়, যার ভিত রয়েছে সুদূর অতীতে। প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদেই আমাদের আদি পুরুষরে মধ্যে বহুগামিতা বিরাজ করত। তার মতে, বিবর্তনের ধারায় পুরুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অধিকাংশ পুরুষের মধ্যেই কম-বেশি অবিশ্বস্ত হওয়ার প্রবণতা রয়ে গেছে৷
স্টুয়ার্টের গবেষণায় যে ২৭ ধরনের পুরুষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধরনগুলো হলো: সুযোগসন্ধানী, যারা পরিণতি না ভেবেই যে কারো সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কের সুযোগ ছাড়েন না। কেউবা আবার অন্যের দুর্বলতার সুযোগ নেন। এরা সবসময় পরিস্থিতি নিজের পক্ষে নিতে চান এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করেন। তবে এর বাইরেও বহু সংখ্যক পরুষ রয়েছেন যারা এখনো তাদের স্ত্রী বা সঙ্গিনীর প্রতি সৎ, বিশ্বস্ত এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন।
সূত্র: মেট্রো নিউজ, যুক্তরাষ্ট্র
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪