

সোমবার ● ১৪ অক্টোবর ২০১৩
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: জীববিদ্যা ও বিবর্তন » ক্রোমোজোমের পরিবর্তনই কি আগ্রাসনের জন্য দায়ী ?
ক্রোমোজোমের পরিবর্তনই কি আগ্রাসনের জন্য দায়ী ?
দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা কিছু সংখ্যক ছেলেদের দীর্ঘকালীন আগ্রাসন জীনগত পরিবর্তনের থেকে হতে পারে, যা ক্রোমোজোমের পরিবর্তনজনিত কারণে জীনের উপর প্রভাব ফেলে। ক্যানাডার মনট্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ই. ট্রেমব্লে এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মোসে জিফ পরিচালিত দুটি গবেষণা অনুযায়ী, এটির উদ্ভব মায়েদের মানসিক অসুস্থতা এবং মাদক ব্যাবহার থেকে হতে পারে যা গর্ভাবস্থায় আর শৈশবে পরিবর্তন ঘটে থাকে। কৈশোর এবং শৈশবকালে ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সে মাঝারি মাত্রার আগ্রাসী পুরুষদের তুলনায়, দীর্ঘকালীন আগ্রাসী পুরুষদের রক্তে প্রদাহ ইঙ্গিতকারী চারটি রাসায়নিক দ্রব্যের মাত্রা কম দেখতে পেয়েছেন ট্রেমব্লের দল । ট্রেমব্লে বলেন, ‘সাইটোকিন নামক এই চারটি অনুর পরীক্ষা করে আমরা অন্যান্যদের হতে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক আগ্রাসনজনিত পরুষদেরকে পৃথক করতে পেরেছি।’
জিফের গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল পুরুষের আক্রমণাত্মক ইতিহাস পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে সাইটোকিন উৎপাদনের জন্য ডিএনএ সংকেতলিপিটির জীনগত পরিবর্তন ঘটে। এটি ঘটে থাকে তখনই যখন মিথাইল গ্রুপগুলো ডিএনএ’র এটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংযুক্ত থেকে সেখানকার কার্যক্রমের পরিবর্তন ঘটায়। মিথাইলেশন একটি এপিজেনেটিক পরিবর্তন। এর মাধ্যমেও পরিবেশগত কারণে অথবা পিতা বা মাতার জৈবিক ক্রিয়ালাপের ফলে সন্তানের উপর প্রভাব পড়ে। জিফ এর মতে, শিশুর জন্মের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিবেশ এই পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
প্রানীদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় এবং শৈশবে প্রতিকূল পরিবেশ মিথাইলেশন প্রভাবিত করে যা মস্তিষ্কের বিকাশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ট্রেমব্লের ও তার দলের পূর্ববর্তী কাজে এটাই ইঙ্গিত করে আগ্রাসী অতীত ধারণকারী পুরুষদের মধ্যে একটি জিনিসের মিল আছে - তাদের মায়েদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ট্রেমব্লে ব্যাখ্যা করে বলেন, কম বয়সে প্রথম সন্তানের জন্ম, কম শিক্ষিত, মানসিক সমস্যায় ভোগা এবং মাদক ব্যাবহারের সমস্যায় সাধারণত এদেরকে দেখা যায়। এই মায়েরা সমস্যার মধ্যে থাকার ফলে সন্তানের মস্তিষ্ক বিকাশের সাথে সম্পর্কিত জিনের কার্যকলাপ এবং আরো অনেক জৈব গঠনে প্রভাব ফেলে।
সম্পাদনা: ফিবা মণ্ডল
সূত্র: পাবলিক লাইব্রেরি অফ সায়েন্স ওয়ান জার্নাল
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩