

রবিবার ● ১০ নভেম্বর ২০১৩
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: জীববিদ্যা ও বিবর্তন » পোকামাকড়ে মাতৃক প্রবৃত্তি
পোকামাকড়ে মাতৃক প্রবৃত্তি
ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গলে একটি রঙ্গীন গুবরে-পোকার দলে মাতৃ প্রবৃত্তি লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞেনীরা। গবেষণা জার্নাল জকিস-এর একটি বিশেষ সংখ্যায় গবেষকরা একটি উপ-গোত্রীয় পাতা গুবরে পোকার আটটি প্রজাতির মধ্যে মাতৃক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন। এরা প্রশস্থ-কাধ গুবরে পোকা বা ক্রাইশোমেলিনে নামে পরিচিত।
পানামার স্মিথসনিয়ান ট্রপিকাল রিসার্চ ইন্সিটিউটের গবেষক ডোনাল্ড এম. উইন্সডোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মায়েরা তাদের ডিমের সাথে সাথে সক্রিয়ভাবে সন্তানদেরকে সুরক্ষিত রাখে। যদিও নিম্নস্তরের পোকামাকড় তাদের ডিম খাদ্য উৎসের কাছাকাছি রাখতে দেখা গেলেও এ ধরনের সক্রিয় আচরণ বিরল। মা গুবরে-পোকা পাতায় ডিম ফোটানোর পর সেটিকে তাদের থাকার স্থান হিসেবে পাহারা দিয়েছে। পাতার প্রান্তে একটি পাতলা কাঠি রাখার পর পাতার চারপাশে মা পোকাকে পা দিয়ে আঘাত করে ও পাতা ঝাকিয়ে আক্রমণাত্মক ভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। গবেষকরা জানান, ডিম দেয়া পাতার পাশে আর নিচে রাখা ৪ ইঞ্চি ক্যামেরা সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলো। দেখা গেছে মা পোকা শূককীট ধরে রেখে পাহারা দিচ্ছে।
তবে অন্য প্রজাতির গুবরে-পোকাদেরকে কম আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাতৃক যত্ন নিতে দেখা গেছে। শূককীট জন্ম নেবার পর কোন কোন মা তাদের পাতায় পরিবর্তন করে বলে মনে হয় এবং কোন কোন মা শূককীটদের জন্মের পর কোন একটি নির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় ছোট ছোট দলে গঠন করে। তবে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরেও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকায় গুবরে-পোকার মধ্যে এরুপ আচরণের স্পষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। উইন্সডোর ও তার সহকর্মীরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন উভয় দলের প্রাকৃতিক ইতিহাসসহ পরজীবী ও শিকারী প্রাণীর পরিচয় ও গুরুত্ব এবং মায়েদের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যাবহারের ফলে শূককীটের বেঁচে থাকাটাকে কিভাবে প্রভাবিত করে সেই সম্পর্কে জানতে তাদের এখনো ঢের বাকি।
সম্পাদনা: ফিবা মণ্ডল
সূত্র: সায়েন্স ডেইলী
২ অক্টোবর, ২০১৩