শনিবার ● ৫ মে ২০১৮
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান নিবন্ধ: প্রকৃতি ও পরিবেশ » আজব প্রাণী জল ভালুক (টার্ডিগ্রেড)
আজব প্রাণী জল ভালুক (টার্ডিগ্রেড)
টার্ডিগ্রেড বা জল ভালুকদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের বিস্ময়ের অন্ত নেই, অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয় এতো ছোট এই জীবের সহ্যক্ষমতা অসাধারণ। প্রচন্ড ঠান্ডা, ফুটন্ত তরল, তেজস্ক্রিয়তা, উচ্চচাপ কোনো কিছুকেই পরোয়া করেনা এই টার্ডিগ্রেড। মহাশূন্যের ব্যশূন্যতায়ও কাটিয়ে দিতে পারে দিনের পর দিন। অদম্য এই টার্ডিগ্রেড বা জল ভালুকদের (ওয়াটার বেয়ার) নিয়ে কসমিক কালচারের এবারের আয়োজন।
![]()
আটপেয়ে অণুজীব টার্ডিগ্রেডদের চলাফেরা সবখানে; হিমালয় পাহাড়ের উপর, অতল সমুদ্র, রেইন ফরেস্ট বা এন্টার্টিক- একটুখানি মস জোগাড় করে পানিতে ভেজালে দেখা যাবে ছোট ছোট টার্ডিগ্রেডরা সাঁতরে বেড়াচ্ছে। অনেকটা ছোট ভালুকের মতো দেখতে বলে এদের আরেক নাম জল ভালুক বা ওয়াটার বেয়ার। জল ভালুকের সহ্য ক্ষমতা অসাধারণ, যেসব ভয়ঙ্কর পরিবেশে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে নিশ্চিত, সেসব পরিস্থিতিতে জল ভালুক দিব্বি বেঁচে থাকে, ভয়ঙ্কর আবহাওয়ার একটা ধারণা দিচ্ছি:
• বিপজ্জনক তাপমাত্রা- প্রচন্ড ঠান্ডা (-৪৫৮* ফা., -২৭২*সে.) থেকে ভয়ানক গরম ( ৩০০*ফা, ১৫০*সে) তাপমাত্রায় জল ভালুক দিব্বি বেঁচে থাকতে পারে।
• উচ্চচাপ- সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর তলদেশের চেয়ে ৬ গুন্ বেশি চাপেও টার্ডিগ্রেডের কিছুই হয়না।
• তেজস্ক্রিয়তা- মানুষ মারা যাবে এমন তেজস্ক্রিয়তার চেয়ে ১০০ গুন্ বেশি আয়নাইজিং রেডিয়েশন প্রয়োগ করলেও কিছুই হয়নি এমন ভাব জল ভালুকদের।
• মহাশূন্যের বায়ুশূণ্যতা- বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যেও পাঠিয়েছে টার্ডিগ্রেডদের, চরম বায়ুশূণ্যতায় দিনের পর দিন কাটানোর পর বেশিরভাগ জল ভালুক সম্পূর্ণ সুস্থ্য অবস্থায় ফিরে এসেছে।
• চরম খাদ্যাভাব- কোনো খাবার বা পানি ছাড়া জলভালুক ৩০বছর বা তার চেয়েও বেশি বছর বেঁচে থাকতে পারে, শরীরে ৩% বা তার চেয়ে একটু কম পানি থাকলেই চলবে।
কেন জল ভালুক এত আলাদা?
বিজ্ঞানীরা টার্ডিগ্রেডের সহ্যক্ষমতার রহস্য ভেদে অনেক বছর ব্যয় করেছে, অবশেষে চ্যাপেল হিলের ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনার বিজ্ঞানী ড. টমাস বুথবি এবং ওনার সহকর্মীরা একটু আলো দেখালেন আমাদের। মলিকুলার সেল নামের জার্নাল এ তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়।যখনি কোনো অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়, টার্ডিগ্রেডের প্রধান লক্ষ্য থাকে শরীরের ভেতরের পানিশূন্যতা রোধ করা। এদের শরীরে অনন্য কিছু জীন আছে যেগুলো টিডিপি ( টার্ডিগ্রেড স্পেসিফিক এন্ট্রিনসিকেলি ডিসর্ডারড প্রোটিন) তৈরী করতে পারে।
যখনি টার্ডিগ্রেডের শরীরের পানি শুকিয়ে যেতে লাগে টার্ডিগ্রেডের টিডিপি তৈরির জিনগুলো সচল হয়ে যায়, প্রচুর পরিমানে টিডিপি তৈরী হয়, প্রোটিনগুলো জল ভালুকের পুরো শরীর কাচসদৃশ এক আবরণ দিয়ে ঢেকে দেয়। কাঁচের এ আবরণ টার্ডিগ্রেডের ভেতরের কোষগুলোকে সুরক্ষিত রাখে, টিডিপি বিপাক ক্রিয়াও ধীর করে দেয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য। এভাবে টার্ডিগ্রেড বেঁচে থাকতে পারে বছরের পর বছর। আবার পানির সংস্পর্শ পেলে কাঁচসদৃশ আবরণ গলে যাবে, টার্ডিগ্রেড ফিরে যাবে তার স্বাভাবিক জীবনে। জলভালুকের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল মাত্র ১ বছর।
অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয় এতো ছোট জল ভালুকরা ওদের অসাধারণ সহ্যক্ষমতা দিয়ে প্রমান করে দেখিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের অহংকার করার কিছুই নেই, এখনো প্রকৃতির ভাণ্ডারে অজানা অনেক কিছুই লুকিয়ে আছে। যদিও অনেকেই জল্পনা করে যে আজব এই প্রাণী পৃথিবীর নয়, ভিনগ্রহের; মানে এলিয়েন| যেখান থেকেই আসুক, আসল কথা হলো, হাজার ধরণের টার্ডিগ্রেড আমাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে প্রতিদিন, আমাদের প্রতিবেশী হয়ে।
রচনা: তাহমিনা খানম লুনা
সূত্র- দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস , উইকিপিডিয়া
বিষয়: #jol valuk #tardigrade #water bear





ভাইরাসখেকো অনুজীবের সন্ধানে - এমরান আহমেদ
অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকরতা হয়ে উঠছে মানবদেহের জন্য হুমকি - তাওছিয়া তাজমিম
পৃথিবীর গভীরতম অংশে বিস্ময়কর পরিমান প্রাণের অস্তিত্ব
সুপারবাগ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের আতঙ্ক - রাজীব নন্দী
ফের প্রজাতি গণবিলুপ্তির পথে পৃথিবী - যোয়েল কর্মকার 