

মঙ্গলবার ● ২৮ আগস্ট ২০১৮
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: মহাকাশ » চাদের উৎপত্তি বিষয়ে আরও বিস্তারিত নতুন তথ্য
চাদের উৎপত্তি বিষয়ে আরও বিস্তারিত নতুন তথ্য
আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছরেরও বেশি পূর্বে আমাদের এই পৃথিবীর সাথে অন্য আরেকটি গ্রহের এক বিশাল সংঘর্ষ হয়। যে গ্রহের সাথে সংঘর্ষ হয় তার আকার ছিল প্রায় মঙ্গল গ্রহের সমান। গ্রহটির নাম থেইয়া (Theia)। এই গ্রহের সাথে সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি বেকে গিয়েছিল। আর সেই হেইয়া নামক গ্রহটি গিয়েছিল একদম ভেঙ্গেচুড়ে। সেই ভাঙ্গা টুকরোগুলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্রিত হয়ে গঠিত হয় চাঁদ। কিন্তু এই ঘটনা তো আর কেউ চোখে দেখেনি। পৃথিবী ও চাদের গঠন, সৌরজগতের কাঠামো, মহাকর্ষ বলের প্রভাব ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এগুলো আমাদের জানিয়েছেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিজ্ঞানীরা চাঁদের উৎপত্তি সম্পর্কে আরও নতুন অনেক তথ্য জানতে শুরু করেছেন।
বর্তমানে প্রতি বছর চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় চার সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। চাদের এই দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন একটি ডাইন্যামিক কম্পিউটার সিমুলেশন করেছেন। কম্পিউটার সিমুলেশনের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা আজ থেকে কোটি বছর আগে কি ঘটেছিল বা এখন থেকে কোটি বছর পরে কি ঘটবে তা সম্পর্কে বেশ নির্ভরযোগ্য ধারনা করতে পারেন। নতুন উদ্ভাবিত এই কম্পিউটার সিমুলেশন থেকে বিজ্ঞনীরা কোটি বছর ধরে চলতে থাকা পৃথিবী ও চাদের ক্রমশ দূরে সরে যাওয়ারর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন।
তাদের গবেষণায় দেখা যায়, অনেক বছর আগে বর্তমানে তুলনায় জোয়ার ভাটার প্রভাব অনেক কম ছিল। এর থেকে বোঝা যায় পৃথিবীর বিদ্যমান অধিকাংশ পানি তখন জমাট বাধা বরফ অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি এটিও পরিস্কার যে, তখন সূর্যের তাপমাত্রাও বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক কম ছিল। গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী তখন সূর্যের পৃষ্ঠ-তাপমাত্রা অন্তত ৩০ শতাংশ কম ছিল।
আমরা জানি যে, চাদের বিষুব অঞ্চল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি স্ফীত। প্রায় ২০০ বছর আগে এই তথ্য আবিস্কার করেন ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়েরে সাইমন লাপ্লাস। নতুন এই গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা চাদের মধ্য অঞ্চলের এই অস্বাভাবিক স্ফীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই প্রকল্পের অন্যতম গবেষক শিজি ঝং বলেন, “চাঁদের মধ্যভাগের স্ফীতির মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাথমিক রূপান্তরের অনেক রহস্য জানা সম্ভব হবে যা হয়তো আর কোনোভাবেই উদ্ধারের সুযোগ নেই।” এই গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারনা পাবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সম্পাদনা: হিমাংশু কর
সূত্র: Sciencealert