

বৃহস্পতিবার ● ৩ জানুয়ারী ২০১৯
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ: মহাকাশ » চাঁদের দূরবর্তী স্থানে চীনের মহাকাশযানের সফল অবতরণ
চাঁদের দূরবর্তী স্থানে চীনের মহাকাশযানের সফল অবতরণ
চীন জানায়, চাঁদের দূরবর্তী স্থানে অর্থাৎ চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, সেই দূরবর্তী অংশে প্রথম একটি রোবট চালিত মহাকাশযান সফলভাবে অবতরণ করিয়েছে চীন, যা প্রথমবারের মতো এরকম প্রচেষ্টা এবং অবতরণ। বেইজিং স্থানীয় সময় সকাল ১০ টা ২৬ মিনিটে মহাকাশযানটি চাঁদের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীণতম ক্র্যাটার দক্ষিণ মেরু-এটকেইন বেসিনে অবতরণ করে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানানো হয়।মহাকাশযানটি চাদেঁর অনাবিষ্কৃত অঞ্চলের ভূতত্ত্ব বিশ্লেষণের পাশাপাশি জৈবিক পরীক্ষা পরিচালনা করার জন্য যন্ত্র বহন করছে। মহাকাশ গবেষণায় এই অবতরণটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরে আরও জানানো হয়, যদিও চাঁদের অন্যান্য দিকে এর আগেও মহাকাশযান অবতরণ করেছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে, যেদিকটা কখনও পৃথিবীর মুখোমুখি হয় না, সেখানে বিশ্বে এটিই প্রথম কোনো মহাকাশযানের সফল অবতরণ। বেইজিংয়ের বেইজিং এয়ারস্পেস কন্ট্রোল সেন্টারে মনিটরের মাধ্যমে সিম্যুলেটেড অবতরণ প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চীনের ন্যাশনাল স্পেস এডমিনিস্ট্রেশনের লুনার এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড স্পেস প্রোগ্রাম সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর টঙ্গী লিউ বলেন, “চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চলটি পৃথিবীর তড়িৎচুম্বকীয় ব্যতিচার থেকে সুরক্ষিত থাকায়, এই অঞ্চলটি মহাকাশের পরিবেশ এবং সৌর বিস্ফোরণের সম্পর্কে গবেষণা করার জন্য আদর্শ জায়গা এবং প্রোবটি মহাবিশ্বের গভীরতম অঞ্চলের স্পন্দন শুনতে পারে”।
চাঙ’ই-৪ নামের রোভারটি ১.৫ মিটার (৫ ফুট) দীর্ঘ এবং প্রায় ১ মিটার (৩.৩ ফুট) প্রশস্ত এবং লম্বা, দুটি ভাঁজ করতে সক্ষম সৌর প্যানেল এবং ছয়টি চাকা রয়েছে। মার্কিন নৌ-সমর কলেজের অধ্যাপক এবং চীনের মহাকাশ কর্মসূচির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোয়ান জনসন ফ্রয়েস বলেন, “চীন তার মহাকাশের অর্জনসমূহ রেকর্ডভুক্ত করতে খুবই আগ্রহী।”
চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের কয়েক ঘন্টা পরে, রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠের ল্যান্ডার থেকে পৃথক হয়ে তার মিশন শুরু করে। এটি প্রথমবারের মতো পৃথিবীকে চাঁদের অদেখা অঞ্চলের প্রথম নিকট পরিসরের ছবিটিকে প্রেরণ করেছে। এই ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাদেঁর দৃশ্যমান অঞ্চল সমতল হলেও অদেখা অঞ্চলটি পাব্যত্য ও অসমতল।
২০০৩ সালে চীন প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার পর চীন হচ্ছে তৃতীয় কোন দেশ যারা মহাকাশ কর্মসূচীতে এরকম সাফল্য দেখালো।