

রবিবার ● ৩ জুন ২০১২
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ » শতাব্দীর সর্বশেষ শুক্র ট্রানজিট
শতাব্দীর সর্বশেষ শুক্র ট্রানজিট
সূর্যের উপর দিয়ে কোন গ্রহের অতিক্রম করার বিষয়টি একটি দুর্লভ মহাজাগতিক ঘটনা। পৃথিবী থেকে দেখলে শুধুমাত্র বুধ এবং শুক্র গ্রহের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটা সম্ভব। গড়ে প্রতি একশ বছরে ১৮ বার সূর্যের উপর দিয়ে বুধ গ্রহের চলন ঘটে থাকে। অন্যদিকে শুক্র গ্রহের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে প্রতি একশ বছরে আট বছরের ব্যবধানে একটি জোড়া হিসেবে।
এই শতকে সূর্যের উপর দিয়ে শুক্রের প্রথম চলন ঘটেছিল ২০০৪ সালে। স্বভাবতই এই জোড়ার দ্বিতীয় চলনটি ঘটবে এই বছরে, বাংলাদেশের হিসেবে আগামী ৬ জুন, ২০১২ তারিখে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ট্রানজিট অব ভেনাস’। এক্ষেত্রে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে একই সরলরেখায় শুক্র গ্রহ চলে আসে এবং সূর্যের উপরে শুক্রের চলমান ছায়া পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে। এই ব্যাপারটি অনেকটা সূর্যগ্রহণের মতই, শুধু চাঁদের পরিবর্তে শুক্র গ্রহ অবস্থান করে। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব চাঁদের দূরত্বের চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি। তাছাড়া সূর্যের ব্যাসও চাঁদের ব্যাসের তুলনায় ৪০০ গুণ বড়। তাই পৃথিবী থেকে দেখলে চাঁদ ও সূর্যের আয়তন হুবহু একই রকম মনে হয়। একারণে সহৃর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের উজ্জলতম অংশকে পরিপূর্ণ বা আংশিকভাবে ঢেকে ফেলতে পারে। কিন্তু শুক্রের চলন বা ট্রানজিটের সময়ে তার অবস’ানগত কারণে সূর্যকে আড়াল করতে পারে না। ফলে সূর্যের উপর দিয়ে অতিক্রমের সময় সূর্যের উজ্জ্বল চাকতির উপর শুক্রকে একটি কালো বিন্দুর মত মনে হয়।
কোন শতকে শুক্রের প্রথম ট্রানজিটটি ঘটার ঠিক ৮ বছর পরে দ্বিতীয় ট্রানজিটটি ঘটে থাকে। এর কারণ হলো শুক্রের (২২৪.৭০১ দিন) এবং পৃথিবীর (৩৬৫.২৫৬ দিন) কক্ষপথ পরিভ্রমন কালে প্রতি ৮ বছর পর পর পরস্পরের রেজোন্যান্স ঘটে। অন্যভাবে বলা যায়, এই সময়ে পৃথিবী সূর্যকে আটবার প্রদক্ষিণ করে আর শুক্র তেরোবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবী ও শুক্র এই ৮ বছর পর পর একই সরলরেখায় আসে। এই ট্রানজিট সংগঠনের সিরিজটি ৮৮,৭৫৬ দিন বা ২৪৩ বছরের। অর্থাৎ ৮+১০৫.৫+৮+১২১.৫ বছর। এর মানে হলো কোন শতকের প্রথম ট্রানজিটটি ঘটার ৮ বছর পর, এরপর ১০৫.৫ বছর পর, এরপর ৮ বছর পর এবং এরপরে ১২১.৫ পরে আবার ট্রানজিট ঘটে। এভাবে একটি সিরিজ পূর্ণ হয়।
৬ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৪টা ৯ মিনিট নাগাদ প্রথম সূর্যের গায়ে দাগ ফেলবে শুক্র। প্রক্রিয়াটি শুরম্নর ঘণ্টাখানেক পরে অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই তা দেখতে পাবেন এ দেশের মানুষ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাজাগতিক দৃশ্যটি দেখা যাবে। বাংলাদেশের সকল অব্জল থেকেই মেঘমুক্ত থাকা সাপেড়্গে এই ট্রানজিট দেখা সম্ভব হবে।
শুক্রের চলনের বিভিন্ন দশার সময় (সকাল):
১ম স্পর্শ ৪টা ০৯মি. ৩৮সে.
২য় স্পর্শ ৪টা ২৭মি. ৩৪সে.
সর্বোচ্চ চলন ৭টা ২৯মি. ৩৬সে.
৩য় স্পর্শ ১০টা ৩১মি. ৩৯সে.
৪র্থ স্পর্শ ১০টা ৪৯মি. ৩৫সে.
২১১৭ সালের ১১ ডিসেম্বরের আগে পৃথিবী থেকে শুক্রের ট্রানজিট আর দেখা সম্ভব হবে না। তাই পৃথিবীর মানুষের কাছে এই ট্রানজিটটি উল্লেখযোগ্য। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ট্রানজিটটি দেখা যাবে টেলিস্কোপ ছাড়াই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যেহেতু সরাসরি সহৃর্যের দিকে তাকালে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়, তাই খালি চোখে এ দৃশ্য দেখা ঠিক নয়। ঘষা কাচ, ১৪ নম্বর শেডের ওয়েল্ডিং গ্লাস কিংবা অ্যালুমিনাইজ্ড মাইলার ফিল্টার দিয়ে সূর্যের বুকে শুক্রের চলন দেখতে পাবেন।