

বৃহস্পতিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩
প্রথম পাতা » মঙ্গল গ্রহে অভিযান » বাংলাদেশী আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার
বাংলাদেশী আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার
মানুষের মহাকাশ অভিযাত্রার প্রতি পদে পদে রয়েছে বিপদ। আর মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ এতোটাই বিপদসঙ্কুল যে সাধারণ একটি ভুল বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মার্স ওয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলে যাত্রা হবে একমুখী অর্থাৎ আর কোনোদিনই পৃথিবীতে ফেরা হবে না। তবুও মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী বসবাসের জন্য মার্স ওয়ানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জমা পড়ে দুই লক্ষের বেশি আবেদনপত্র। পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে এই অগ্যস্ত যাত্রার জন্য আবেদন করেছেন ১৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক (মার্স-ওয়ান ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে)। কসমিক কালচারের পক্ষ থেকে আমরা জানতে চেষ্টা করেছি আবেদনকারীদের এই অভিযানে অংশ নেয়ার নেপথ্য কথা। তাদের কয়েকজনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে মতামতগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
এনামুল হক
এনামুল হকের ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ওপরে পিএচডি করছেন। পাবনার ঈশ্বরদীতে জন্ম নেয়া এনামুল মানবজাতির জন্য তার মেধা কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখেন। অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জানি মঙ্গলের জীবন হবে সংগ্রামময় এবং কখনোই আর পৃথিবীতে ফিরে আসা সম্ভব হবে না, তবুও বিজ্ঞান অভিযাত্রায় এটি হবে একটি মহৎ অংশগ্রহণ যেখানে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে মানবজাতির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণে ও বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু করার সুযোগ রয়েছে। এই মিশনে গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকের প্রয়োজন পড়বে, আর এজন্যই হয়তো মার্স-ওয়ান মিশনের কর্তৃপক্ষ আমাকে নির্বাচন করবে।”
শারমিন জাহান
শারমিন জাহান ঢাকা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস কোর্স সম্প্ন্ন করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক হওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন এ+ পাওয়া শারমিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে মানুষের চাঁদে অভিযান সম্পর্কে জানতে পারেন। এই ঘটনাই তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে বড় হয়ে অন্য কোন গ্রহে পাড়ি জমানোর। তাই মঙ্গলের হাতছানি কোনভাবেই এড়াতে পারেননি। তিনি বলেন, “মঙ্গলের এই মিশন হবে নতুন প্রজন্মের জন্য। ফলে তাদের একজন চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়বে। একজন চিকিৎসক হিসেবে মঙ্গলের নতুন প্র্রজন্মের জন্য প্রত্যক্ষভাবে কিছু করার সুযোগ রয়েছে আমার।”
সালমা মেহের ঐশী
আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সালমা মেহের ঐশী মার্স-ওয়ান মিশনে অংশ নেয়ার পেছনে তার মতামত জানিয়ে বলেন, “স্কুলজীবনে যখন থেকে আমি মহাকাশ নিয়ে নানারকম পড়াশুনা করতে শুরু করেছি তখন থেকেই একটা সুপ্ত স্বপ্ন ছিল মহাকাশচারী হওয়ার। ভারতের নারী মহাকাশচারী কল্পনা চাওলাকে নিজের আদর্শ ভাবতে ভাল লাগত। সাইন্স ফিকশন এর বই, মহাকাশ নিয়ে প্রকাশিত নানারকম প্রতিবেদন পড়া আমার প্রিয় বিষয়। মার্স মিশন আমার সেই সুপ্ত স্বপ্ন পূরণের একটা বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশ নিতে পারার সু্যোগ পাওয়াটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। প্রতিকূল পরিবেশে ভালভাবে টিকে থাকার জন্য যে মানসিক শক্তির প্রয়োজন তা আমার আছে। সুযোগ পেলে আর প্রশিক্ষণ পেলে নিজেকে মার্স মিশনের জন্য যোগ্য করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নিঃসন্দেহে মার্স মিশন মানব সভ্যতার আর প্রযুক্তির ইতিহাসের একটা মাইল ফলক। আজ হোক কাল হোক, মানুষকে হয়ত একদিন পৃথিবীর বাইরের অনন্ত নক্ষত্রবীথির দিকে পাড়ি দিতেই হবে। মার্স মিশন কতটুকু সফল হবে সেটা সময়ই বলে দিবে। মানুষ অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে, আমিও মার্স মিশনের সফলতার বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।”