

রবিবার ● ২২ এপ্রিল ২০১২
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ » সিনথেটিক ডিএনএ : বিবর্তনে নতুন মাত্রা
সিনথেটিক ডিএনএ : বিবর্তনে নতুন মাত্রা
গবেষকরা সাফল্যের সাথে ডিএনএ এবং আরএনএ অনুর কৃত্রিম প্রতিরূপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা জীবনের রহস্য উন্মোচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে ডিএনএ ও আরএনএ জীবনের বৈশিষ্ট্য ধারণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করার ক্ষেত্রে একমাত্র উপাদান নয়।
এছাড়া এই গবেষণা ইঙ্গিত করে পৃথিবীর বাইরে এই মহাবিশ্বের অন্য কোথাও যদি প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে সেখানে বিবর্তন প্রক্রিয়াও থাকবে কিন্তু সেক্ষেত্রে সেই প্রাণের রাসায়নিক গঠন এই পৃথিবীর মতো পরিচিত নাও হতে পারে। অর্থাৎ পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রাণ বিকাশ যেভাবে হয়েছে - সেই রাসায়নিক গঠনটিই যে সমস্ত প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য, এই বিষয়টিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না ব্রিটিশ গবেষক দল। কৃত্রিম ডিএনএ নিয়ে গবেষণায় এই সাফল্য হয়তো ভবিষ্যতের ‘সিনথেটিক বায়োলজি’র জন্য পথ তৈরি করে দেবে।
ব্রিটেনের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের ল্যাবরেটরি অব মলিক্যুলার বায়োলজির গবেষক ফিলিপ হোলগার ও তাঁর সহকর্মীরা এই গবেষণায় ডিএনএ ও আরএনএ’র মতো ছয়টি কৃত্রিম অণু তৈরি করেছেন। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন জেনো নিউক্লিক অ্যাসিড বা এক্সএনএ। কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ যে উপায়ে বিভাজিত হয়ে সন্তানের দেহে মাতৃকোষের জিনগত তথ্য পৌঁছে দেয়, এক্সএনএ-দের জন্যও গবেষকরা সেই পরিবেশ তৈরি করে দেন। দীর্ঘ ও জটিল এই গবেষণার শেষ পর্যায়ে গবেষকরা দেখতে পান বিভাজনের ফলে তৈরি হওয়া নতুন অনুলিপিতেও এক্সএনএ’র জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়েছে।
ডিএনএ ও আরএনএর এই প্রতিরূপ তৈরির একটি কারণ ছিল পৃথিবীতে কীভাবে জীবনের সূচনা হয়েছে তা বের করা। বিজ্ঞান পত্রিকা ‘সায়েন্স’ (Vol. 336 no. 6079 pp. 307-308)-এ সম্প্রতি এই গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি