

বুধবার ● ১০ জুলাই ২০১৩
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ » মহাকাশে পাড়ি দেবে অলিম্পিক মশাল
মহাকাশে পাড়ি দেবে অলিম্পিক মশাল
২০১৪ সালে রাশিয়ার সোচী শহরে অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিকের পূর্বের মশাল দৌড়ের মশালটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বহন করে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, একইসাথে এটি উন্মুক্ত মহাকাশেও বের করা হবে। আনুষ্ঠানিক ভাবে মশাল হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করবেন ওই সময়ে মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকারী ওলেগ কোতভ ও সের্গেই রিয়াজানস্কি নামের দুইজন রাশিয়ার মহাকাশচারী। উভয়েই আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করবেন। ইতোমধ্যে সুয়্যজ যানের মাধ্যমে মশাল পাঠানো হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক থাকলে আগামী ৭ নভেম্বর মাহাকাশে রওনা দেবে অলিম্পিকের ঐতিহ্যবাহী মশাল। আশা করা যাচ্ছে ওই সময়ে মহাকাশ স্টেশনে নয়জন মহাকাশচারী অবস্থান করবেন। মশালটি পাঁচদিন মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান করবে। মশালটি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে ১২ নভেম্বর।
তবে মহাকাশে এভাবে আগুন বহন করে নিয়ে যওয়াটা মোটেও নিরাপদ নয়। কারণ সত্যিকার আগুন জ্বালাতে হলে নিয়মিতভাবে জ্বালানী সরবরাহের প্রয়োজন হবে। আর বায়ুশূন্য জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে রাখার জন্য দরকার পড়বে প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন। এছাড়া মহাশূন্যে চাপ ভিন্ন রকমের। আগুন জ্বলার ফলে সৃষ্ট চাপে মহাকাশযানের মধ্যে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হবে। একারণে মহাকাশযানের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করতে গেলে প্রয়োজন হবে বাড়তি সুরক্ষার। তাই আদতে আসল অগ্নিশিখা ব্যবহার না করে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে মশালে অগ্নি শিখার নকল কিছু ব্যবহার করা হতে পারে।
মহাকাশ গবেষণায় ভূতপূর্ব সোভিয়েত রাশিয়ার রয়েছে নানামুখী অর্জন। মহাশূন্যে প্রথম প্রাণী হিসেবে লাইকা নামের একটি কুকুর পাঠানো, প্রথম মানুষ হিসেবে ইউরি গ্যাগারিন এর পদচারণা, মহাশূন্যে ভ্রমণ করা প্রথম নারী ভেলেন্তিনা তেরেসকোভা এমনি গৌরবজ্জ্বল ধারাবাহিকতায় রাশিয়া কি এবারেও দেখাবে কোন চমক? সেই অপেক্ষয় বিজ্ঞানমহল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের আটলান্টা গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও ২০০০ সালের সিডনি গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সময়েও মহাকাশে অলিম্পিক মশাল নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরবতীর্তে নিরাপত্তার স্বার্থে আয়োজকরা আগুনের নকল মশাল প্রেরণ করেন। [২৩ জুন, ২০১৩]