

শনিবার ● ৩ ডিসেম্বর ২০১১
প্রথম পাতা » বিজ্ঞান সংবাদ » ভাইরাস প্রতিরোধে নতুন ওষুধ আবিষ্কার
ভাইরাস প্রতিরোধে নতুন ওষুধ আবিষ্কার
অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমন রোধ করতে বহু দশক পূর্বে আবিষ্কৃত পেনিসিলিন এর মতো অ্যান্টিবায়োটিকই এতোদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু ভাইরাস দমনের ক্ষেত্রে যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, রক্তক্ষরণজনিত জ্বর প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর।
সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র লিংকন গবেষনাগারের একদল গবেষক ভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে উন্নতি সাধন করেছেন। তারা একটি নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেছেন যা সেই সকল কোষকে সনাক্ত করতে সক্ষম যে কোষগুলো যেকোন ধরনের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ওষুধটি ভাইরাসকে নয় বরং ওই আক্রান্ত হওয়া কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে ভাইরাস আক্রমন থেকে রক্ষা করে।
গবেষকরা তাদের আবিষ্কৃত ওষুধটি পনেরটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করেছেন এবং তারা দেখেছেন এটি কার্যকরভাবে সাধারণ ঠান্ডার জন্য দায়ী rhinoviruses, H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা, পাকস্থলী ভাইরাস, পোলিও ভাইরাস, ডেঙ্গু জ্বর সহ অন্যান্য রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে।
এই ওষুধটি কাজ করে থাকে আরএনএ সনাক্ত করার মাধ্যমে। ভাইরাসরা বংশ বিস্তার করতে থাকলে দেহ কোষে আর এন এ-র অতি দীর্ঘ ডুপ্লেক্স তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক কোষে সাধারণত থাকে না৷ আর এতেই বোঝা যায় যে, কোনো ভাইরাস দেহ কোষকে আক্রমণ করেছে৷ “এই তত্ত্ব অনুসরন করেই এটি সব ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারবে”, এমনটি জানালেন টড রাইডার, যিনি লিংকন গবেষনাগারের ক্যামিক্যাল, বায়োলজিক্যাল এবং ন্যানোস্কেল টেকনোলজি দলের সিনিয়র বিজ্ঞানী।
এই ওষুধটির একটা যুৎসই নামও দিয়েছেন তারা: ড্রাকো (DRACO - Double-stranded RNA Activated Caspase Oligomerizers)।
এ ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। যদি দেহের অনেক কোষ সংক্রামিত হয়, তা হলে তাদের ধ্বংস করাটা হবে খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। যে সব সংক্রমণে অল্প কিছু কোষ আক্রান্ত হয় ড্রাকো সেগুলিকে ধ্বংস করতে পারলেও হেপাটাইটিস বি-এর মত রোগে যেখানে যকৃতের অনেকটাই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়, সেখানে ড্রাকো ব্যবহার করলে রোগীর পুরো লিভারই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সকল প্রকার শঙ্কা দূরে ঠেলে গবেষকরা তাদের গবেষণা সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে নিরন্তর চেষ্ট করে যাচ্ছেন।
সূত্র: ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ওয়েবসাইট